Monday, August 27, 2012

ফিকামলি তত্ত্ব

ফিকামলি তত্ত্ব পাখির নানা অঙ্গভঙ্গি দেখে আবদুল ওয়াদুদ শিখতে শুরু করেন মার্শাল আর্ট। 'ইয়োগা অ্যান্ড পাইলেটস'_এ বিষয়ে ১৯৯২ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে 'অল ইন্ডিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইয়োগা' থেকে অর্জন করেন 'ব্যায়ামাচার্য্য' ডিগ্রি। এর পরই পাখির নানা অঙ্গভঙ্গি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে ব্যায়ামের
সম্পর্ক নিয়ে ২০১০ সালে উদ্ভাবন করেন 'ফিকামলি তত্ত্ব'।
শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের ফিজিওথেরাপি, মানসিক সুস্থতার জন্য ক্যাথারসিস্ থেরাপি আর আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। ব্যায়াম+পাখি+ধ্যান=ফিজিও থেরাপি+ক্যাথারসিস থেরাপি+মলিফিকেশন থেরাপি। এই তিনের আদ্যাক্ষর মিলেই 'ফিকামলি' (ফি, ক্যা, মলি)। তার ভাষায়_ফিকামলি হলো_পাখি+ব্যায়াম + ধ্যানের সমন্বয়ে দেহ, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য বিনোদনভিত্তিক অনুশীলন পদ্ধতি। পাখির সংসার নানা ছিলেন ফরেস্ট অফিসার। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত নাতি। মন ভরে শুনত পাখির গান। স্কুল ছুটির পর পিছু নিত শালিক, ময়না বা ঘুঘুর। পাখির ডানায় ভর করে হারিয়ে যেত রূপকথার দেশে। হোমওয়ার্কের খাতা ভর্তি করে ফেলত পাখির ছবিতে। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা জীবনেও পাখির নেশা তাকে ছাড়ল না। বিলুপ্তপ্রায় বিদেশি পাখি সংগ্রহের নেশা ড. আবদুল ওয়াদুদকে এমনভাবে পেয়ে বসল, পাখিই এখন তাঁর সংসার। এই সংসারের মোট বাজারমূল্য তিন কোটি টাকা! প্রতি মাসে খরচ হয় তিন লাখ টাকা জয়ন্ত সাহা '১৯৯৭ সাল। মগবাজার জ্যামে বসে আছি। এক লোক ১৬-১৭টা ঘুঘু নিয়ে যাচ্ছে বিক্রির জন্য। পাখিগুলো দেখে মনে হলো তারা খুব কষ্টে আছে। ৬০০ টাকা দিয়ে পাখিগুলো কিনলাম, বাসায় এসে উড়িয়ে দিলাম আকাশে। ওদের উড়ে যাওয়া দেখে মনটা খুশিতে ভরে উঠল।' এতটাই পাখির প্রতি ভালোবাসা তাঁর। ঢাকায় হাতিরপুলের নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ২৫০ প্রজাতির বিদেশি পাখির বিশাল সংগ্রহশালা। অস্ট্রেলিয়ান রোজেলা দিয়ে এই অভিযানের শুরু। ব্রাজিলের আমাজন বনের স্কারলেট ম্যাকাও কিনেছেন ১৬ লাখ টাকায়। আমাদের টিয়াপাখির সমগোত্রীয় বিরল প্রজাতির গোল্ড ম্যাকাওয়ের জোড়া কিনেছেন ৪০ লাখ টাকায়। খাঁচার কাছে গিয়ে দেখা গেল মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে পুরুষ ম্যাকাও। সম্প্রতি বাবা হয়েছে সে। এই আনন্দ ছুঁয়ে গেল ড. ওয়াদুদকেও 'দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্রথমবারের মতো ম্যাকাও বাচ্চা ফুটিয়েছে। উপমহাদেশের তাপমাত্রা তেমনভাবে এদের উপযোগী নয়। বংশবিস্তারের জন্য বাড়ির ছাদে কৃত্রিম ঝর্ণা তৈরি করে জঙ্গলের আবেশ দেওয়ায় ম্যাকাও ডিম দিয়েছে, বাচ্চা ফুটিয়েছে।' বাড়ির মধ্যে সাজানো এই মিনি চিড়িয়াখানায় আরো আছে দক্ষিণ আমেরিকার কাকাতুয়া সরগলম, মুলুকান কাকাতুয়া, আফ্রিকার গ্রে প্যারট, উত্তর আমেরিকার গ্রিনউইংস ম্যাকাও, চ্যাটারিং লরি, ভিয়েতনামের লেডি অ্যামহার্স্ট, সিলভার ফিজেন্ট, অস্ট্রেলিয়ার রক পাবলার, লুকিনো রিং নেক প্যারট ইন্ডিয়া ছাড়াও রং-বেরঙের দুষ্প্রাপ্য আরো অনেক পাখি। এসব দুর্লভ পাখি রক্ষণাবেক্ষণেও অনেক খরচ। পরিচর্যায় একটু এদিক-সেদিক হলেই তারা মারা যেতে পারে। আবার কোনোটি মারা গেলে আরেক জোড়া সংগ্রহ করাও খুব কঠিন। এসব পাখি সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও হয়েছেন তিনি। একদিন এক ভদ্রলোক পোষা মুলুকান কাকাতুয়ার চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর কাছে। পাখিটা খুব পছন্দ হলো ড. ওয়াদুদের। ভদ্রলোকও নাছোড়বান্দা, এত টাকা দিয়ে কেনা শখের পাখি হাতছাড়া করতে কোনোভাবেই তিনি রাজি নন। কথাবার্তার একপর্যায়ে ওয়াদুদ বলে উঠলেন, 'বিনিময়ে আপনি কী চান!' এবার যেন টলে গেলেন পাখির মালিক। ড. ওয়াদুদের দুধেল গাইটা তাঁর খুব পছন্দ। প্রতিদিন দুধ দেয় ১৮ লিটার। শেষমেশ হাতবদল হলো গাই আর পাখি। পাখির মালিক চোখ ছানাবড়া করে বললেন, 'আজব ক্যারেক্টার!'
সারা দিনের রুটিনে পাখিদের জন্যও আলাদা সময়সূচি রাখা আছে ড. ওয়াদুদের। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৮টা, বিকেল ৪টা থেকে ৬টা একান্তে কাটান পাখিদের সঙ্গে। এ সময় বাইরের জগৎ থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান, বিরক্ত করে না কেউ। নানা নামে ডেকে ডেকে আদর করেন প্রিয় পাখিদের। স্কারলেট ম্যাকাওকে ডাকেন 'মা', মুলুকান কাকাতুয়াকে 'মাইকেল'। পাখিগুলোও সাড়া দেয় এ ডাকে। একদিনের ঘটনা_মায়ের মন কোনো কারণে খারাপ মনে হচ্ছে ছেলের। আদর করে কাছে ডাকলেন তাকে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই সে মুখ লুকালো তাঁর বুকে। 'নির্দিষ্ট সময়ে পাখিগুলো যেন তাদের কাছে টেনে নিয়ে আসে আমাকে। এদের ছেড়ে কোথাও যেতে মন চায় না। পাখিগুলোর কিছু হলে মনটা খুব খারাপ থাকে।' আর পাখিগুলোও তাঁর সঙ্গে থাকতে থাকতে সভ্য হয়ে উঠছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খায় না, কোনোকিছু ভালো না লাগলে শারীরিক ভঙ্গিতে সেটি প্রকাশ করে। আবার কখনো খুশিতে ডিগবাজি খায়।  Source: http://www.kalerkantho.com

Saturday, August 25, 2012

ব্যায়ামের নাম ফিকামলি

ব্যায়ামের নাম ফিকামলি - আহমদুল হাসান 'শরীরকে সুস্থ রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! জটিল শারীরিক কসরত করতেও আমরা পিছপা হই না। শরীর সুস্থ রাখলেই শুধু হয় না, চাই মন ও আত্মার সুস্থতাও। শরীর, মন আর আত্মার সুস্থতাই হলো প্রকৃত সুস্থতা।' বলছিলেন পাখি গবেষক ব্যায়ামাচার্য ড. আবদুল ওয়াদুদ। পাখির ওপর দীর্ঘ গবেষণা করে তিনি আবিষ্কার করেছেন ফিকামলি তত্ত্ব। ফিকামলি হলো পাখি, ব্যায়াম ও ধ্যানের সমন্বয়ে দেহ, মন ও আত্মার সুস্থতার অনুশীলন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যায়াম করলে শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে আসে মানসিক প্রশান্তি। বাড়ে মানুষের জীবনীশক্তি ও কর্মক্ষমতা। যারা ব্যায়াম করতে চায় না, এ পদ্ধতি জানলে ব্যায়ামের প্রতি তাদেরও আগ্রহ জন্মাবে।
ফিকামলি কী
শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি, মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে ক্যাথারসিস থেরাপি এবং আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। সুস্থতার তিনটি মাধ্যমের আদ্যক্ষর মিলে হলো ফিকামলি। এ সম্পর্কে ড. ওয়াদুদ বলেন, 'ব্যায়ামের আগে চাই মনের সুস্থতা। পাখি দেখলে মানুষের মনের সুস্থতা আসে। আর আত্মার সুস্থতা আসে ধ্যানের মাধ্যমে। পাখির সাহায্যে মানসিক ও আ@ি@@@ক সুস্থতা নিশ্চিত করে ব্যায়াম করার পদ্ধতিই হলো ফিকামলি।' তিনি আরো বলেন, পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও খাদ্যাভ্যাস থেকে অনেক ব্যায়ামের উৎপত্তি হয়েছে। পদ্ধতিটি একদিকে যেমন বিনোদনভিত্তিক, অন্যদিকে চিন্তাপ্রবণ অনুুশীলন। পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য এ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর বলে তিনি জানান। ড. ওয়াদুদের দাবি, এটা শুধু দেশে নয়, সারা বিশ্বের ব্যায়ামজগতে এক অভিনব পদ্ধতির উদ্ভাবন।
যাদের জন্য প্রযোজ্য
বহুলপরীক্ষিত এ পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নীরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখে। আনন্দ ও বিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী ও পুরুষ এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে। এটি যেমন সহজ, তেমনি কার্যকর। চাইলে নিজের বাসায়ও এই ব্যায়াম করতে পারেন।
প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য
শিশুদের কাছে পাখি অত্যন্ত প্রিয়। পাখি দেখলে তাদের মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি আসে এবং ব্যায়ামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। শুধু স্বাভাবিক শিশু নয়, এ ব্যায়াম প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ ফল দেয়। মানসিকভাবে অস্থির এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের এ পদ্ধতিতে ব্যায়াম করালে তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ফিরে আসে। এতে তারা বিনোদন ও সুস্থতা ফিরে পায়।
উপকারিতা
যারা ব্লাড প্রেসারের রোগী, তাদের জন্য ব্যায়ামটি বিশেষ উপকারী। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতিটি পরীক্ষিত। ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এই ব্যায়াম অতুলনীয়। বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে এ ব্যায়াম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
জিম ও চিড়িয়াখানা
ফিকামলি ব্যায়াম প্রশিক্ষণের জন্য ড. ওয়াদুদ প্লাটিনাম জিমের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছেন মিনি চিড়িয়াখানা। হাতিরপুলে অবস্থিত এই মিনি চিড়িয়াখানায় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির এক দুর্লভ প্রদর্শনী গড়ে তুলেছেন। এখানে আছে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় অতি দুর্লভ প্রজাতির নানা রকম পাখি ও হরিণ। পরিচর্যার সুবিধার্থে তিনি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা রেখেছেন। তিনি জানান, পাখির রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটু অবহেলা হলেই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই সর্বক্ষণই রাখতে হয় বিশেষ নজর। দীর্ঘ ১৪ বছর গবেষণা করে তিনি সম্প্রতি দুর্লভ ম্যাকাও পাখির প্রজনন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। সদ্য মা হওয়া ম্যাকাও পাখির গতিবিধি ও বাচ্চার বেড়ে ওঠা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চলছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায়, দেখানো হচ্ছে বড় পর্দায়। দর্শনার্থীরা বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করতে পারে। আর কেউ যদি পাখি পুষতে এবং ফিকামলি সম্পর্কে জানতে চায়, এখান থেকে সহায়তা করা হয়। চাইলে প্লাটিনাম জিমে এসে ফিকামলি পদ্ধতিতে ব্যায়ামও করতে পারেন।
যোগাযোগ : ২২/২ হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫, মোবাইল : ০১৭১৮৩৬৭৮১৮, ০১৯১১৩২৬২৩০।
 Source: http://www.kalerkantho.com/  
ড. ওয়াদুদের পাখি জগত


মানুষের কৌতুহল আর আগ্রহে বৈচিত্র্যের কোনো শেষ নেই। এমনই এক বিচিত্র তত্ত্ব হচ্ছে 'ফিকামলি'। এই তত্ত্ব হচ্ছে পাখি, ব্যায়াম, ধ্যান- এ তিনের সমন্বয়ে দেহ, মন ও আত্মার সার্বিক সুস্থতার জন্য বিনোদন ভিত্তিক চিন্তাপ্রবণ অনুশীলণ পদ্বতি। পাখির উপর দীর্ঘ গবেষণায় এই তত্ত্বের আবিষ্কার করেন ড. আবদুল ওয়াদুদ। সুস্থতার তিনটি মাধ্যমের অদ্যাক্ষর মিলিয়ে পদ্ধতির নামকরণ করা হয় ফিকামলি। দীর্ঘ গবেষণালব্ধ ও বহুল পরিক্ষীত এই পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নিরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখে।

শারিরীক সুস্থতার জন্য ব্যায়াম অপরিহার্য। আর ব্যায়ামেরই অভিনব ধরন ও পদ্ধতির সমন্বয় করা হয়েছে এই ফিকামলি তত্ত্বের মাধ্যমে। আর সবক্ষেত্রেই রয়েছে পাখির ব্যবহার। ফিজিওথেরাপি, ক্যাথারসিস থেরাপি, মলিফিকেশন থেরাপিসহ অভিনব সব পদ্ধতি মানুষের শরীর, মন ও আত্মার সুস্থতা নিশ্চিত করে বলে দাবি করেন ড. ওয়াদুদ। অনাবিল আনন্দ মানসিক প্রশান্তি ও চিত্তবিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী পুরুষের কাছে এ ব্যায়াম সহজ ও বেশি কার্যকরী। বিশেষ করে ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন, ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণে ও হৃদরোগের ঝুঁিক কমাতে এ ব্যায়াম অতুলনীয়। বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে এ ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয় সমগ্র বিশ্বে ব্যায়াম জগতে এক নতুন ধারণা। ড. আবদুল ওয়াদুদ এর ব্যায়ামের সাথে পাখির দীর্ঘ গবেষণায় দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিরল প্রজাতির ম্যাকাও পাখি ও অন্যান্য বিদেশী পাখি ডিম ফুটে বাচ্চা দিয়েছে। ২২/২, হাতিরপুলে অবস্থিত প্লাটিনাম জিমের নিজস্ব মিনি চিড়িয়াখানায় মা পাখির গতিবিধি ও বাচ্চার বেড়ে ওঠা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চলছে ও বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে। দর্শনার্থীরা বিনামূল্যেই চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করতে পারেন। এখানে রয়েছে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় অতি দুর্লভ প্রজাতির নানারকম পাখি ও হরিণ। এসব পুষতে আগ্রহীদের এখান থেকে সহায়তা করা হয়। পাখির অসুখ বিসুখে দেওয়া হয় বিনা খরচে পরামর্শ । * রকমারি ডেস্ক
 

Monday, August 20, 2012

মানসিক প্রশান্তি আনন্দ: ৪০ লাখ টাকার পাখি ব্লু-গোল্ড ম্যাকাও : রাজধানীতে বিদেশী পাখির প্রদর্শনী

মানসিক প্রশান্তি আনন্দ: ৪০ লাখ টাকার পাখি ব্লু-গোল্ড ম্যাকাও:
রাজধানীতে বিদেশী পাখির প্রদর্শনী
সৈয়দ সোহরাব ॥ প্রকৃতির অনুপম সৃষ্টি পাখি আর ফুল। তবে শিশু-কিশোরদের পৰপাত জীবজন্তু ও পাখির দিকেই। কেননা তাদের গতি আছে। পাখিরা আবার উড়ুক্কু বলে শিশু-কিশোররা তাতে খুঁজে পায় বিশেষ ধরনের এক মাত্রা। কারণ না চাইতেই এই পাখিরা উড়ে এসে বসে জানালার কার্নিসে, বাড়ির আঙ্গিনায়। রং ছড়ায়, গানও গায়। তবে গাছপালাহীন ইট-কংক্রিটের এই নগরী থেকে দিন দিনই হারিয়ে যাচ্ছে পাখি ও গাছপালা। প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন আধুনিক সভ্যতাই এর মূলব্যাধি। ফলে ফিঁকে হচ্ছে স্বপ্ন ও সৌন্দর্যের পরিধি, দুর্বল হচ্ছে মানুষের মন। বিলম্ব সত্ত্বেও এ থেকে খুঁজে নিতে হবে আরগ্যের পথ। কারণ শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন প্রয়োজন ব্যায়াম, তেমনি মানসিক প্রশানত্মি, অনাবিল আনন্দ ও চিত্তবিনোদনের জন্য প্রয়োজন পাখি ও ফুল। তাই নিজ বাড়ির আঙ্গিনায়, বারান্দায় বা ছাদে ফুলের বাগান এবং দেশী-বিদেশী পাখি পালনের ব্যবস্থা করতে হবে নিজ উদ্যোগেই। যেমনটি করেছেন ড. আব্দুল ওয়াদুদ। হাতিরপুলে ইস্টার্ন পস্নাজা সংলগ্ন নিজ বাড়িতেই তিনি গড়ে তুলেছেন মিনি চিড়িয়াখানা। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ছাদে লাগিয়েছেন বিভিন্ন ধরনের গাছ, আর শরীরকে সুস্থ রাখতে আছে ব্যায়ামাগার ও ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট। এই বাড়িতেই তিনি প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছেন চার দিনব্যাপী বিদেশী পাখির প্রদর্শনী। আজ শনিবার এই প্রদর্শনীর শেষ দিন। তবে প্রদর্শনী ছাড়াও প্রতিদিন সহস্রাধিক দর্শনার্থী আসেন তাঁর মিনি চিড়িয়াখানা দেখতে। গত বুধবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক। উদ্বোধনী দিনে 'পরিবেশ উন্নয়নে পশুপাখির ভূমিকা' শীর্ষক এক আলোচনাসভারও আয়োজন করা হয়েছিল।
মিনি চিড়িয়াখানার এই প্রদর্শনীতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির বিদেশী পাখি রয়েছে। দেখতে পাখিগুলো খুবই সুন্দর এবং তাদের নামও বেশ বাহারি। যেমন- বস্নু, গোল্ড ম্যাকাও, স্কারলেট ম্যাকাও, গ্রীন উইং ম্যাকাও, হ্যান্স ম্যাকাও, কাইক, পিন্যান্ট, সিনাসন, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, লেডি আমহাস্ট, রোবিনো রোজেলা, বস্ন্যাক ক্যাপ, বাজরিকা, ইস্টার্ন রোজেলা, আমাজান প্যারট, রক পাবলার, বুরকিস প্যারাকিট, কাকারাকি, বিভিন্ন প্রজাতির কাকাতুয়া, সান কর্নার, হলুদ, সিলভার বস্নু ও ধূসরসহ বিভিন্ন রং ও প্রজাতির টিয়া, বাজরিগর, জাভা, ইলেক্টাস, র্যাম, ডায়মন্ড ডাভ, গ্রীন ডাভ, ফিঞ্চ, রেইনবো লরি, চ্যাটারিং লরি, বস্ন্যাক ক্যাপ লরি, জানদিয়ার, প্যারাকিট, মুলুকান কাকাতুয়া, সালফার ক্যাস্টেট কাকাতুয়া, গোল্ডেন ফ্রিজেন্ট, সিলভার ফ্রিজেন্ট, বিভিন্ন রঙের লাভবার্ড ইত্যাদি।
পাখিগুলোর সঙ্গে এর মালিক আব্দুল ওয়াদুদের বেশ সখ্য লৰ্য করা গেল। যা উৎসুখ দর্শনার্থীরা আগ্রহ ভরেই দেখছেন। আমরা জানি প্রশিৰণ দেয়া পাখি কথা বলে, ডিগবাজি খায়, কিন্তু তাঁর পাখিগুলো একটু বেশিই প্রশিৰণ পাওয়া বলে মনে হলো। কারণ তিনি যা বলছেন, তাই শুনছেন এবং করছেন। যেমন- মা, নেমে আস, হাতে বসো, গালে চুমু দাও ইত্যাদি। পাখিগুলোও ঠিক তা, তা-ই করছে।
তাঁর চিড়িয়াখানায় সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পাখি আর সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা মূল্যের বস্নু-গোল্ড ম্যাকাও এর দম্পতি রয়েছে। সম্প্রতি এই ম্যাকাও পরিবার বাচ্চা ফুটিয়েছে। যা দৰিণ-পূর্ব এশিয়াতেই প্রথম। উলেস্নখ্য, ম্যাকাও গভীর জঙ্গলের পাখি। সে রকম পরিবেশ না পেলে ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফুটানো তো দূরে থাক, তাদের অসত্মিত্ব টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর। তাই এই পাখির বংশ বিসত্মারের জন্য আব্দুল ওয়াদুদ ছাদে গাছ-গাছালি লাগিয়ে কৃত্রিম ঝর্ণা তৈরি করে জঙ্গলের আবেশ দেয়াতেই ম্যাকাও ডিম দিয়েছে ও বাচ্চা ফুটিয়েছে। তাঁর সংগৃহীত পাখির মধ্যে বস্নু-গোল্ড ম্যাকাও একটি দুষ্প্রাপ্য ও দুর্লভ প্রজাতির পাখি। যেমন এর বাহারি রং, তেমনি চমক লাগানো এর কাজকর্ম। সুদূর মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের এই পাখি বাংলাদেশের টিয়া পাখির সমগোত্রীয় এবং গড়নও তেমনই। তবে আকারে অনেক বড়। এদের আদি নিবাস প্রধানত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল আমাজান জঙ্গলে। এই বিরল প্রজাতির পাখি গোটা উপমহাদেশেই আছে হাতেগোনা কয়েকটি। বিশ্বেও এর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে বাংলাদেশে রয়েছে বস্নু-গোল্ড ম্যাক্যাও-এর এই দম্পতি। দৃষ্টিনন্দন এ বস্নু-গোল্ড ম্যাক্যাও পাখি সাধারণত ব্রাজিল, বলিভিয়া, ত্রিনিদাদ, ম্যাঙ্েিকা, কোস্টারিকা ও পানামার গভীর জঙ্গলে দেখা যায়। টিয়ার মতো এই ম্যাক্যাও পাখি শখ করেই পুষে থাকে মানুষ। উপমহাদেশের আদর্্রতা আর তাপমাত্রা এদের খুব একটা উপযোগী নয়। তাই এই পাখিটি সবাই পুষতে পারে না। এই পাখিটিসহ এমনই রং-বেরঙের শত শত দুষ্প্রাপ্য আরও অনেক পাখির সংগ্রহ রয়েছে এ মিনি চিড়িয়াখানায়। দুর্লভ এসব পাখি রক্ষণাবেক্ষণ অত্যনত্ম ব্যয়বহুল। পরিচর্যায় একটু ব্যতিক্রম বা অবহেলা হলেই মৃতু্যর ঝুঁকি থাকে। টাকার অঙ্কে একটি পাখির মৃতু্যর ধকল অনেক বেশি হলেও আরেক জোড়া সংগ্রহ করা তার চেয়েও কঠিন বলে জানালেন সংগ্রাহক আব্দুল ওয়াদুদ। তাই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ আবাস গড়ে তুলেছেন তিনি। উলেস্নখ্য, তাঁর কাছে সংগৃহীত এসব পাখির আনত্মর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের ছেলে বলেই ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল যখন যেখানে থাকব প্রকৃতির ছোঁয়ায় বা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকব। আর ছোটবেলা থেকেই পাখি ভালবাসতাম, পাখির অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে নিজেও হাত-পা চালাতাম, এভাবে কখন যে পাখির প্রেমে পড়ে যাই, তা আর বলতে পারি না। তবে এখন পাখিই আমার ধ্যান-জ্ঞান। সেই চিনত্মা থেকেই নিজ বাড়িতে এমন আয়োজন। আর প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পাখি প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। কারণ পাখি যেমন পরিবেশের ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে সুস্থ রাখে, তেমনি এই পাখি মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার শিৰা দিতে পারে। পাখির অঙ্গ চালনা থেকেই নিজে মার্শাল আর্ট শিখতে উদ্বুদ্ধ হই। আর একমাত্র বাংলাদেশীই আমি, যিনি ইয়োগা এ্যান্ড পাইলেটস'-এর ওপর কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য ১৯৯২ সালে 'অল ইন্ডিয়া রিসার্স ইনস্টিটিউট অব ইয়োগা' থেকে 'ব্যায়ামাচার্য্য' ডিগ্রী লাভ করি। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করে ২০১০ সালে 'ফিকামলি' তত্ত্বের আবিষ্কার করি। যা এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হতে চলেছে। ফিকামলি হলো 'পাখি + ব্যায়াম + ধ্যান-এর সমন্বয়ে দেহ, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য বিনোদনভিত্তিক চিনত্মাপ্রবণ অনুশীলন পদ্ধতি।' যেমন, দেহের সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক, আবার ব্যায়ামের সঙ্গে বিনোদনের, তেমনি বিনোদনের সঙ্গে পাখির সম্পর্ক। অর্থাৎ পাখি দেখার সঙ্গে সঙ্গে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার অটোনোমাস নার্ভাস সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাল লাগার কাজ করতে থাকে। পাখি সিস্নম, স্মাার্ট ও ন্যাচারাল সৌন্দর্যের প্রতীক। অনেক খাবার সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও পাখি বেশি বেশি খেয়ে তার ওড়ার ক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হারায় না। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্যাভাস ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক বেশি বেশি খেয়ে মেদভূঁিড় বাড়িয়ে আসত্মে আসত্মে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে, দৈহিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন রোগ আক্রমণের সহজ শিকারে পরিণত হয়। তখনই মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে। তা ছাড়া পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও খাদ্যাভাস থেকে অনেক ব্যায়ামের উৎপত্তি হয়েছে। শারীরিক সুস্থতার জন্য পাখি এবং ব্যায়ামের যোগসূত্র সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতাকেই বোঝায় না, দেহ, মন ও আত্মার সম্মিলিত সুস্থতাই প্রকৃত অর্থে সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা পাই ফিজিওথেরাপি। মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে পাই ক্যাথারসিসথেরাপি, আর আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। ব্যায়াম+ পাখি+ ধ্যান = ফিজিও থেরাপি+ ক্যাথারসিস থেরাপি+মলিফিকেশন থেরাপি। তিনটির আদ্যোক্ষর মিলেই 'ফিকামলি' (ফি, ক্যা, মলি)। ফিকামলি ব্যায়াম সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতির ব্যায়াম। দীর্ঘ গবেষণালব্ধ ও বহুল পরিক্ষীত এই পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নিরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুলস্ন রাখে। অনাবিল আনন্দ মানসিক প্রশানত্মি ও চিত্তবিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী-পুরম্নষের কাছে এ ব্যায়াম সহজ ও বেশি কার্যকরী। বিশেষ করে বস্নাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, নিয়ন্ত্রণ, ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এ ব্যায়াম অতুলনীয়। বাচ্চাদের মানসিক বিকাশেও এ ব্যায়াম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে ব্যায়াম জগতে এক নতুন ধারণা ও পদ্ধতির উদ্ভাবন। তাই সকলেরই নিজ বাড়িতে প্রকৃতির আমেজ তৈরি করে শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দেয়া উচিত


Source: http://www.dailyjanakantha.com 
 

Saturday, August 18, 2012

৩ মিনিটের ব্যায়াম

৩ মিনিটের ব্যায়াম

প্রতিদিন মাত্র তিন মিনিটের ব্যায়ামই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী সপ্তাহে ৩ বারে ২০ মিনিট  অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩ মিনিটের কম সময় সাইক্লিং করলেই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
১০০ জনের ওপর পরিচালিত ৬ সপ্তাহের গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩ বারে ২০ মিনিট সাইক্লিং করার ফলে তাদের ইন্সুলিন হরমোন এর কার্যক্ষমতা ও পুনরুত্পাদন ২৮ শতাংশ বেড়ে যায়।
নিয়মিত ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় এবং মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
গবেষণাকারী নিলস ভল্লার্ড বলেন,"আমাদের শরীরে শর্করা রয়েছে যার নাম ‘গ্লাইকো্জেন’।এই গ্লাইকো্জেন ব্যায়ামের সময় ব্যবহৃত হয়। ব্যায়ামের পর এই শর্করার মাত্রা ফিরিয়ে আনতে আমাদের রক্তে শর্করা থাকা জরুরি যা মাংশপেশি সবল রাখতে সাহায্য করে। নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের বেলায় এই ইন্সুলিন হরমোন তৈরি হতে অনেক বেশি সময় লাগে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।"
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিদিন সাইক্লিং, ব্যায়াম, হাল্কা হাটাহাটি  করানো হতো। নিলস ভল্লার্ড আরও বলেন, আমাদের গবেষণার তথ্য অনুযায়ী ব্যায়াম ছাড়া এই ‘গ্লাইকো্জেন’ হরমোন বাড়ানোর আর কোনো সহজ পদ্ধতি নেই।
এ গবেষণাটি একটি ল্যাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে এধরনের হাল্কা শারীরিক ব্যায়াম আমরা কর্মক্ষেত্রে বা ব্যায়ামাগারে অনুশীলন করতে পারি। তিনি আরও বলেন, এই মাত্রার ব্যায়াম ওজন হ্রাসে সাহায্য করে না, তবে সাধারণ ফিটনেস বাড়াতে সাহায্য করে।

Monday, August 6, 2012

সাইকেল চালক স্কারলেট ম্যাকাও

সাইকেল চালক স্কারলেট ম্যাকাও

-ড. ওয়াদুদের গবেষণা

০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট

'আয় রে আয় টিয়ে, নাও ভরা দিয়ে। নাও নিয়ে গেল বোয়াল মাছে, তা দেখে দেখে ভোদর নাচেঃ শৈশবে এই ছড়া পড়েনি- এমন বাঙ্গালি বিরল। তবে এছড়া পড়ার পর বোয়াল মাছে নাও নিয়ে গেলে তা দেখে ভোদড় নাচে কিনা বা 'টিয়ে নাও ভরা' দিয়ে আসে কিনা- এমন প্রশ্ন কেউ কখনো তুলেছে বলে শোনা যায়নি। প্রশ্ন কেউ তুলক বা না তুলুক, টিয়া 'নাও ভরা দিয়ে' না আসলেও তারা যে সাইকেল চালিয়ে আসতে জানে- তা এ ছবি দেখলেই বেশ বোঝা যায়। সাইকেল চালক এই ম্যাকাও আমাদের টিয়ারই স্বগোত্রীয়। এদের নিবাস মূলত দক্ষিণ আমেরিকায়। তবে উত্তর আমেরিকার কিছু অংশেও এদের দেখা মেলে। অতি দুর্লভ জাতের এই পাখির নাম স্কারলেট ম্যাকাও। শুধু দেখতে সুন্দর তাই নয় অনেক গুণও আছে। শেখালে এরা মানুষের অনুকরণে 'কথা বলতে' পারে, খেলাধুলাও করতে পারে কিছু কিছু। এই পাখি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন অ্যান্ড রিয়ারিং এসোসিয়েশনের মহাসচিব পক্ষি প্রেমিক ড. আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি স্কারলেট ম্যাকাও নিয়ে গবেষণার পর ব্যায়ামের এক নতুন তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন। নিজস্ব পস্নাটিনাম জিমে এ ফিকামলি ব্যায়াম প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য মেক্সিকোতে জন্ম নেয়া এই স্কারলেট ম্যাকাও পাখিটি সংগ্রহ করতে তিনি খরচ করেছেন ২০ হাজার ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৪ লাখ টাকা।

স্কারলেট ম্যাকাও 'কথা বলে', খেলাধুলা করে, সবার সাথে মিশতে পারে এবং সর্বোপরি ফিকামলি ব্যায়ামে রয়েছে এর বিশেষ ভূমিকা। সারা পৃথিবীতে এই জাতের পাখি খাঁচায় পোষা অবস্থায় আছে ২০০টিরও কম। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে এই সংখ্যা ১০টির বেশি নয়। পাখিটি দৈর্ঘ্যে ৩৩ থেকে ৩৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। গভীর জঙ্গলে বড় গাছের কোঠরে, বিশেষ করে পাইন গাছে বাসা বাঁধে। এদের গড় আয়ু প্রায় ৫০ বছর। এরা বছরে একবার দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান জঙ্গলে বসবাসকারী স্কারলেট উপজাতির লোকজন এই পাখির পালক দিয়ে তাদের বাহারি পোশাক, মুকুট ও অলংকার তৈরি করে।

ড. আব্দুল ওয়াদুদ ওই পাখির সাহায্যে ব্যায়ামের ফিকামলি তত্ত্বটিকে ব্যাখ্যা করেছেন অনেকটা এভাবে 'মনের সাথে দেহের সম্পর্ক।' দেহের সাথে ব্যায়ামের সম্পর্ক। ব্যায়ামের সাথে বিনোদনের সম্পর্ক। বিনোদনের সাথে পাখির সম্পর্ক'। ঢাকার হাতিরপুলের ২২/২ নাম্বার বাসায় গড়ে তোলা তার মিনি চিড়িয়াখানা এবং পস্নাটিনাম জিমে পশুপাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ, অনুসরণ করে ব্যায়াম, অ্যারোবিক্স, যোগাসন ও মেডিটেশন শেখানো হয়।

শারীরিক সুস্থতার জন্য পাখি এবং ব্যায়ামের যোগসূত্র সম্পর্কে ড. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতাকেই বুঝায় না। শরীর, মন ও আত্মার সম্মিলিত সুস্থতাই হল প্রকৃত অর্থে সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি, মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে ক্যাথারসিস থেরাপি, আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। পাখি-ব্যায়াম-ধ্যান এ তিনের সমন্বয়ে ফিকামলি ব্যায়াম।

ড. ওয়াদুদ দাবি করেন, তার দীর্ঘ গবেষণালব্ধ ও বহুল পরীক্ষিত এই পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নিরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুলস্ন রাখে। অনাবিল আনন্দ, মানসিক প্রশান্তি ও চিত্ত বিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী-পুরুষের কাছে এ ব্যায়াম সহজ ও বেশি কার্যকরী। বিশেষ করে বস্নাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ, ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণ ও বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে এ ব্যায়াম অতুলনীয়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে ব্যায়াম জগতে এক নতুন ধারণা ও পদ্ধতির উদ্ভাবন।