সাইকেল চালক স্কারলেট ম্যাকাও
-ড. ওয়াদুদের গবেষণা
০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট
'আয় রে আয় টিয়ে, নাও ভরা দিয়ে। নাও নিয়ে গেল বোয়াল মাছে, তা দেখে দেখে ভোদর নাচেঃ শৈশবে এই ছড়া পড়েনি- এমন বাঙ্গালি বিরল। তবে এছড়া পড়ার পর বোয়াল মাছে নাও নিয়ে গেলে তা দেখে ভোদড় নাচে কিনা বা 'টিয়ে নাও ভরা' দিয়ে আসে কিনা- এমন প্রশ্ন কেউ কখনো তুলেছে বলে শোনা যায়নি। প্রশ্ন কেউ তুলক বা না তুলুক, টিয়া 'নাও ভরা দিয়ে' না আসলেও তারা যে সাইকেল চালিয়ে আসতে জানে- তা এ ছবি দেখলেই বেশ বোঝা যায়। সাইকেল চালক এই ম্যাকাও আমাদের টিয়ারই স্বগোত্রীয়। এদের নিবাস মূলত দক্ষিণ আমেরিকায়। তবে উত্তর আমেরিকার কিছু অংশেও এদের দেখা মেলে। অতি দুর্লভ জাতের এই পাখির নাম স্কারলেট ম্যাকাও। শুধু দেখতে সুন্দর তাই নয় অনেক গুণও আছে। শেখালে এরা মানুষের অনুকরণে 'কথা বলতে' পারে, খেলাধুলাও করতে পারে কিছু কিছু। এই পাখি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন অ্যান্ড রিয়ারিং এসোসিয়েশনের মহাসচিব পক্ষি প্রেমিক ড. আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি স্কারলেট ম্যাকাও নিয়ে গবেষণার পর ব্যায়ামের এক নতুন তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন। নিজস্ব পস্নাটিনাম জিমে এ ফিকামলি ব্যায়াম প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য মেক্সিকোতে জন্ম নেয়া এই স্কারলেট ম্যাকাও পাখিটি সংগ্রহ করতে তিনি খরচ করেছেন ২০ হাজার ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৪ লাখ টাকা।
স্কারলেট ম্যাকাও 'কথা বলে', খেলাধুলা করে, সবার সাথে মিশতে পারে এবং সর্বোপরি ফিকামলি ব্যায়ামে রয়েছে এর বিশেষ ভূমিকা। সারা পৃথিবীতে এই জাতের পাখি খাঁচায় পোষা অবস্থায় আছে ২০০টিরও কম। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে এই সংখ্যা ১০টির বেশি নয়। পাখিটি দৈর্ঘ্যে ৩৩ থেকে ৩৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। গভীর জঙ্গলে বড় গাছের কোঠরে, বিশেষ করে পাইন গাছে বাসা বাঁধে। এদের গড় আয়ু প্রায় ৫০ বছর। এরা বছরে একবার দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান জঙ্গলে বসবাসকারী স্কারলেট উপজাতির লোকজন এই পাখির পালক দিয়ে তাদের বাহারি পোশাক, মুকুট ও অলংকার তৈরি করে।
ড. আব্দুল ওয়াদুদ ওই পাখির সাহায্যে ব্যায়ামের ফিকামলি তত্ত্বটিকে ব্যাখ্যা করেছেন অনেকটা এভাবে 'মনের সাথে দেহের সম্পর্ক।' দেহের সাথে ব্যায়ামের সম্পর্ক। ব্যায়ামের সাথে বিনোদনের সম্পর্ক। বিনোদনের সাথে পাখির সম্পর্ক'। ঢাকার হাতিরপুলের ২২/২ নাম্বার বাসায় গড়ে তোলা তার মিনি চিড়িয়াখানা এবং পস্নাটিনাম জিমে পশুপাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ, অনুসরণ করে ব্যায়াম, অ্যারোবিক্স, যোগাসন ও মেডিটেশন শেখানো হয়।
শারীরিক সুস্থতার জন্য পাখি এবং ব্যায়ামের যোগসূত্র সম্পর্কে ড. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতাকেই বুঝায় না। শরীর, মন ও আত্মার সম্মিলিত সুস্থতাই হল প্রকৃত অর্থে সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি, মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে ক্যাথারসিস থেরাপি, আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। পাখি-ব্যায়াম-ধ্যান এ তিনের সমন্বয়ে ফিকামলি ব্যায়াম।
ড. ওয়াদুদ দাবি করেন, তার দীর্ঘ গবেষণালব্ধ ও বহুল পরীক্ষিত এই পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নিরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুলস্ন রাখে। অনাবিল আনন্দ, মানসিক প্রশান্তি ও চিত্ত বিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী-পুরুষের কাছে এ ব্যায়াম সহজ ও বেশি কার্যকরী। বিশেষ করে বস্নাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ, ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণ ও বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে এ ব্যায়াম অতুলনীয়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে ব্যায়াম জগতে এক নতুন ধারণা ও পদ্ধতির উদ্ভাবন।
০০ ইত্তেফাক রিপোর্ট
'আয় রে আয় টিয়ে, নাও ভরা দিয়ে। নাও নিয়ে গেল বোয়াল মাছে, তা দেখে দেখে ভোদর নাচেঃ শৈশবে এই ছড়া পড়েনি- এমন বাঙ্গালি বিরল। তবে এছড়া পড়ার পর বোয়াল মাছে নাও নিয়ে গেলে তা দেখে ভোদড় নাচে কিনা বা 'টিয়ে নাও ভরা' দিয়ে আসে কিনা- এমন প্রশ্ন কেউ কখনো তুলেছে বলে শোনা যায়নি। প্রশ্ন কেউ তুলক বা না তুলুক, টিয়া 'নাও ভরা দিয়ে' না আসলেও তারা যে সাইকেল চালিয়ে আসতে জানে- তা এ ছবি দেখলেই বেশ বোঝা যায়। সাইকেল চালক এই ম্যাকাও আমাদের টিয়ারই স্বগোত্রীয়। এদের নিবাস মূলত দক্ষিণ আমেরিকায়। তবে উত্তর আমেরিকার কিছু অংশেও এদের দেখা মেলে। অতি দুর্লভ জাতের এই পাখির নাম স্কারলেট ম্যাকাও। শুধু দেখতে সুন্দর তাই নয় অনেক গুণও আছে। শেখালে এরা মানুষের অনুকরণে 'কথা বলতে' পারে, খেলাধুলাও করতে পারে কিছু কিছু। এই পাখি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন অ্যান্ড রিয়ারিং এসোসিয়েশনের মহাসচিব পক্ষি প্রেমিক ড. আব্দুল ওয়াদুদ। তিনি স্কারলেট ম্যাকাও নিয়ে গবেষণার পর ব্যায়ামের এক নতুন তত্ত্ব উদ্ভাবন করেছেন। নিজস্ব পস্নাটিনাম জিমে এ ফিকামলি ব্যায়াম প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য মেক্সিকোতে জন্ম নেয়া এই স্কারলেট ম্যাকাও পাখিটি সংগ্রহ করতে তিনি খরচ করেছেন ২০ হাজার ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৪ লাখ টাকা।
স্কারলেট ম্যাকাও 'কথা বলে', খেলাধুলা করে, সবার সাথে মিশতে পারে এবং সর্বোপরি ফিকামলি ব্যায়ামে রয়েছে এর বিশেষ ভূমিকা। সারা পৃথিবীতে এই জাতের পাখি খাঁচায় পোষা অবস্থায় আছে ২০০টিরও কম। সার্কভুক্ত দেশগুলোতে এই সংখ্যা ১০টির বেশি নয়। পাখিটি দৈর্ঘ্যে ৩৩ থেকে ৩৫ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। গভীর জঙ্গলে বড় গাছের কোঠরে, বিশেষ করে পাইন গাছে বাসা বাঁধে। এদের গড় আয়ু প্রায় ৫০ বছর। এরা বছরে একবার দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজান জঙ্গলে বসবাসকারী স্কারলেট উপজাতির লোকজন এই পাখির পালক দিয়ে তাদের বাহারি পোশাক, মুকুট ও অলংকার তৈরি করে।
ড. আব্দুল ওয়াদুদ ওই পাখির সাহায্যে ব্যায়ামের ফিকামলি তত্ত্বটিকে ব্যাখ্যা করেছেন অনেকটা এভাবে 'মনের সাথে দেহের সম্পর্ক।' দেহের সাথে ব্যায়ামের সম্পর্ক। ব্যায়ামের সাথে বিনোদনের সম্পর্ক। বিনোদনের সাথে পাখির সম্পর্ক'। ঢাকার হাতিরপুলের ২২/২ নাম্বার বাসায় গড়ে তোলা তার মিনি চিড়িয়াখানা এবং পস্নাটিনাম জিমে পশুপাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ, অনুসরণ করে ব্যায়াম, অ্যারোবিক্স, যোগাসন ও মেডিটেশন শেখানো হয়।
শারীরিক সুস্থতার জন্য পাখি এবং ব্যায়ামের যোগসূত্র সম্পর্কে ড. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতাকেই বুঝায় না। শরীর, মন ও আত্মার সম্মিলিত সুস্থতাই হল প্রকৃত অর্থে সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি, মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে ক্যাথারসিস থেরাপি, আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। পাখি-ব্যায়াম-ধ্যান এ তিনের সমন্বয়ে ফিকামলি ব্যায়াম।
ড. ওয়াদুদ দাবি করেন, তার দীর্ঘ গবেষণালব্ধ ও বহুল পরীক্ষিত এই পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নিরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুলস্ন রাখে। অনাবিল আনন্দ, মানসিক প্রশান্তি ও চিত্ত বিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী-পুরুষের কাছে এ ব্যায়াম সহজ ও বেশি কার্যকরী। বিশেষ করে বস্নাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ, ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণ ও বাচ্চাদের মানসিক বিকাশে এ ব্যায়াম অতুলনীয়। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে ব্যায়াম জগতে এক নতুন ধারণা ও পদ্ধতির উদ্ভাবন।
Source: http://ittefaq.com.bd/
No comments:
Post a Comment