মানসিক প্রশান্তি আনন্দ: ৪০ লাখ টাকার পাখি ব্লু-গোল্ড ম্যাকাও:
রাজধানীতে বিদেশী পাখির প্রদর্শনী
সৈয়দ সোহরাব ॥ প্রকৃতির অনুপম সৃষ্টি পাখি আর ফুল। তবে শিশু-কিশোরদের পৰপাত
জীবজন্তু ও পাখির দিকেই। কেননা তাদের গতি আছে। পাখিরা আবার উড়ুক্কু বলে
শিশু-কিশোররা তাতে খুঁজে পায় বিশেষ ধরনের এক মাত্রা। কারণ না চাইতেই এই
পাখিরা উড়ে এসে বসে জানালার কার্নিসে, বাড়ির আঙ্গিনায়। রং ছড়ায়, গানও গায়।
তবে গাছপালাহীন ইট-কংক্রিটের এই নগরী থেকে দিন দিনই হারিয়ে যাচ্ছে পাখি ও
গাছপালা। প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন আধুনিক সভ্যতাই এর মূলব্যাধি। ফলে ফিঁকে হচ্ছে
স্বপ্ন ও সৌন্দর্যের পরিধি, দুর্বল হচ্ছে মানুষের মন। বিলম্ব সত্ত্বেও এ
থেকে খুঁজে নিতে হবে আরগ্যের পথ। কারণ শারীরিক সুস্থতার জন্য যেমন প্রয়োজন
ব্যায়াম, তেমনি মানসিক প্রশানত্মি, অনাবিল আনন্দ ও চিত্তবিনোদনের জন্য
প্রয়োজন পাখি ও ফুল। তাই নিজ বাড়ির আঙ্গিনায়, বারান্দায় বা ছাদে ফুলের
বাগান এবং দেশী-বিদেশী পাখি পালনের ব্যবস্থা করতে হবে নিজ উদ্যোগেই। যেমনটি
করেছেন ড. আব্দুল ওয়াদুদ। হাতিরপুলে ইস্টার্ন পস্নাজা সংলগ্ন নিজ বাড়িতেই
তিনি গড়ে তুলেছেন মিনি চিড়িয়াখানা। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে ছাদে লাগিয়েছেন
বিভিন্ন ধরনের গাছ, আর শরীরকে সুস্থ রাখতে আছে ব্যায়ামাগার ও ব্যাডমিন্টন
খেলার কোর্ট। এই বাড়িতেই তিনি প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছেন চার দিনব্যাপী
বিদেশী পাখির প্রদর্শনী। আজ শনিবার এই প্রদর্শনীর শেষ দিন। তবে প্রদর্শনী
ছাড়াও প্রতিদিন সহস্রাধিক দর্শনার্থী আসেন তাঁর মিনি চিড়িয়াখানা দেখতে। গত
বুধবার এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান
মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আআমস আরেফিন
সিদ্দিক। উদ্বোধনী দিনে 'পরিবেশ উন্নয়নে পশুপাখির ভূমিকা' শীর্ষক এক
আলোচনাসভারও আয়োজন করা হয়েছিল।
মিনি চিড়িয়াখানার এই প্রদর্শনীতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির বিদেশী পাখি রয়েছে। দেখতে পাখিগুলো খুবই সুন্দর এবং তাদের নামও বেশ বাহারি। যেমন- বস্নু, গোল্ড ম্যাকাও, স্কারলেট ম্যাকাও, গ্রীন উইং ম্যাকাও, হ্যান্স ম্যাকাও, কাইক, পিন্যান্ট, সিনাসন, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, লেডি আমহাস্ট, রোবিনো রোজেলা, বস্ন্যাক ক্যাপ, বাজরিকা, ইস্টার্ন রোজেলা, আমাজান প্যারট, রক পাবলার, বুরকিস প্যারাকিট, কাকারাকি, বিভিন্ন প্রজাতির কাকাতুয়া, সান কর্নার, হলুদ, সিলভার বস্নু ও ধূসরসহ বিভিন্ন রং ও প্রজাতির টিয়া, বাজরিগর, জাভা, ইলেক্টাস, র্যাম, ডায়মন্ড ডাভ, গ্রীন ডাভ, ফিঞ্চ, রেইনবো লরি, চ্যাটারিং লরি, বস্ন্যাক ক্যাপ লরি, জানদিয়ার, প্যারাকিট, মুলুকান কাকাতুয়া, সালফার ক্যাস্টেট কাকাতুয়া, গোল্ডেন ফ্রিজেন্ট, সিলভার ফ্রিজেন্ট, বিভিন্ন রঙের লাভবার্ড ইত্যাদি।
পাখিগুলোর সঙ্গে এর মালিক আব্দুল ওয়াদুদের বেশ সখ্য লৰ্য করা গেল। যা উৎসুখ দর্শনার্থীরা আগ্রহ ভরেই দেখছেন। আমরা জানি প্রশিৰণ দেয়া পাখি কথা বলে, ডিগবাজি খায়, কিন্তু তাঁর পাখিগুলো একটু বেশিই প্রশিৰণ পাওয়া বলে মনে হলো। কারণ তিনি যা বলছেন, তাই শুনছেন এবং করছেন। যেমন- মা, নেমে আস, হাতে বসো, গালে চুমু দাও ইত্যাদি। পাখিগুলোও ঠিক তা, তা-ই করছে।
তাঁর চিড়িয়াখানায় সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পাখি আর সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা মূল্যের বস্নু-গোল্ড ম্যাকাও এর দম্পতি রয়েছে। সম্প্রতি এই ম্যাকাও পরিবার বাচ্চা ফুটিয়েছে। যা দৰিণ-পূর্ব এশিয়াতেই প্রথম। উলেস্নখ্য, ম্যাকাও গভীর জঙ্গলের পাখি। সে রকম পরিবেশ না পেলে ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফুটানো তো দূরে থাক, তাদের অসত্মিত্ব টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর। তাই এই পাখির বংশ বিসত্মারের জন্য আব্দুল ওয়াদুদ ছাদে গাছ-গাছালি লাগিয়ে কৃত্রিম ঝর্ণা তৈরি করে জঙ্গলের আবেশ দেয়াতেই ম্যাকাও ডিম দিয়েছে ও বাচ্চা ফুটিয়েছে। তাঁর সংগৃহীত পাখির মধ্যে বস্নু-গোল্ড ম্যাকাও একটি দুষ্প্রাপ্য ও দুর্লভ প্রজাতির পাখি। যেমন এর বাহারি রং, তেমনি চমক লাগানো এর কাজকর্ম। সুদূর মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের এই পাখি বাংলাদেশের টিয়া পাখির সমগোত্রীয় এবং গড়নও তেমনই। তবে আকারে অনেক বড়। এদের আদি নিবাস প্রধানত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল আমাজান জঙ্গলে। এই বিরল প্রজাতির পাখি গোটা উপমহাদেশেই আছে হাতেগোনা কয়েকটি। বিশ্বেও এর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে বাংলাদেশে রয়েছে বস্নু-গোল্ড ম্যাক্যাও-এর এই দম্পতি। দৃষ্টিনন্দন এ বস্নু-গোল্ড ম্যাক্যাও পাখি সাধারণত ব্রাজিল, বলিভিয়া, ত্রিনিদাদ, ম্যাঙ্েিকা, কোস্টারিকা ও পানামার গভীর জঙ্গলে দেখা যায়। টিয়ার মতো এই ম্যাক্যাও পাখি শখ করেই পুষে থাকে মানুষ। উপমহাদেশের আদর্্রতা আর তাপমাত্রা এদের খুব একটা উপযোগী নয়। তাই এই পাখিটি সবাই পুষতে পারে না। এই পাখিটিসহ এমনই রং-বেরঙের শত শত দুষ্প্রাপ্য আরও অনেক পাখির সংগ্রহ রয়েছে এ মিনি চিড়িয়াখানায়। দুর্লভ এসব পাখি রক্ষণাবেক্ষণ অত্যনত্ম ব্যয়বহুল। পরিচর্যায় একটু ব্যতিক্রম বা অবহেলা হলেই মৃতু্যর ঝুঁকি থাকে। টাকার অঙ্কে একটি পাখির মৃতু্যর ধকল অনেক বেশি হলেও আরেক জোড়া সংগ্রহ করা তার চেয়েও কঠিন বলে জানালেন সংগ্রাহক আব্দুল ওয়াদুদ। তাই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ আবাস গড়ে তুলেছেন তিনি। উলেস্নখ্য, তাঁর কাছে সংগৃহীত এসব পাখির আনত্মর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের ছেলে বলেই ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল যখন যেখানে থাকব প্রকৃতির ছোঁয়ায় বা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকব। আর ছোটবেলা থেকেই পাখি ভালবাসতাম, পাখির অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে নিজেও হাত-পা চালাতাম, এভাবে কখন যে পাখির প্রেমে পড়ে যাই, তা আর বলতে পারি না। তবে এখন পাখিই আমার ধ্যান-জ্ঞান। সেই চিনত্মা থেকেই নিজ বাড়িতে এমন আয়োজন। আর প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পাখি প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। কারণ পাখি যেমন পরিবেশের ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে সুস্থ রাখে, তেমনি এই পাখি মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার শিৰা দিতে পারে। পাখির অঙ্গ চালনা থেকেই নিজে মার্শাল আর্ট শিখতে উদ্বুদ্ধ হই। আর একমাত্র বাংলাদেশীই আমি, যিনি ইয়োগা এ্যান্ড পাইলেটস'-এর ওপর কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য ১৯৯২ সালে 'অল ইন্ডিয়া রিসার্স ইনস্টিটিউট অব ইয়োগা' থেকে 'ব্যায়ামাচার্য্য' ডিগ্রী লাভ করি। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করে ২০১০ সালে 'ফিকামলি' তত্ত্বের আবিষ্কার করি। যা এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হতে চলেছে। ফিকামলি হলো 'পাখি + ব্যায়াম + ধ্যান-এর সমন্বয়ে দেহ, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য বিনোদনভিত্তিক চিনত্মাপ্রবণ অনুশীলন পদ্ধতি।' যেমন, দেহের সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক, আবার ব্যায়ামের সঙ্গে বিনোদনের, তেমনি বিনোদনের সঙ্গে পাখির সম্পর্ক। অর্থাৎ পাখি দেখার সঙ্গে সঙ্গে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার অটোনোমাস নার্ভাস সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাল লাগার কাজ করতে থাকে। পাখি সিস্নম, স্মাার্ট ও ন্যাচারাল সৌন্দর্যের প্রতীক। অনেক খাবার সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও পাখি বেশি বেশি খেয়ে তার ওড়ার ক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হারায় না। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্যাভাস ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক বেশি বেশি খেয়ে মেদভূঁিড় বাড়িয়ে আসত্মে আসত্মে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে, দৈহিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন রোগ আক্রমণের সহজ শিকারে পরিণত হয়। তখনই মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে। তা ছাড়া পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও খাদ্যাভাস থেকে অনেক ব্যায়ামের উৎপত্তি হয়েছে। শারীরিক সুস্থতার জন্য পাখি এবং ব্যায়ামের যোগসূত্র সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতাকেই বোঝায় না, দেহ, মন ও আত্মার সম্মিলিত সুস্থতাই প্রকৃত অর্থে সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা পাই ফিজিওথেরাপি। মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে পাই ক্যাথারসিসথেরাপি, আর আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। ব্যায়াম+ পাখি+ ধ্যান = ফিজিও থেরাপি+ ক্যাথারসিস থেরাপি+মলিফিকেশন থেরাপি। তিনটির আদ্যোক্ষর মিলেই 'ফিকামলি' (ফি, ক্যা, মলি)। ফিকামলি ব্যায়াম সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতির ব্যায়াম। দীর্ঘ গবেষণালব্ধ ও বহুল পরিক্ষীত এই পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নিরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুলস্ন রাখে। অনাবিল আনন্দ মানসিক প্রশানত্মি ও চিত্তবিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী-পুরম্নষের কাছে এ ব্যায়াম সহজ ও বেশি কার্যকরী। বিশেষ করে বস্নাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, নিয়ন্ত্রণ, ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এ ব্যায়াম অতুলনীয়। বাচ্চাদের মানসিক বিকাশেও এ ব্যায়াম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে ব্যায়াম জগতে এক নতুন ধারণা ও পদ্ধতির উদ্ভাবন। তাই সকলেরই নিজ বাড়িতে প্রকৃতির আমেজ তৈরি করে শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দেয়া উচিত
Source: http://www.dailyjanakantha.com
মিনি চিড়িয়াখানার এই প্রদর্শনীতে প্রায় ২৫০ প্রজাতির বিদেশী পাখি রয়েছে। দেখতে পাখিগুলো খুবই সুন্দর এবং তাদের নামও বেশ বাহারি। যেমন- বস্নু, গোল্ড ম্যাকাও, স্কারলেট ম্যাকাও, গ্রীন উইং ম্যাকাও, হ্যান্স ম্যাকাও, কাইক, পিন্যান্ট, সিনাসন, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, লেডি আমহাস্ট, রোবিনো রোজেলা, বস্ন্যাক ক্যাপ, বাজরিকা, ইস্টার্ন রোজেলা, আমাজান প্যারট, রক পাবলার, বুরকিস প্যারাকিট, কাকারাকি, বিভিন্ন প্রজাতির কাকাতুয়া, সান কর্নার, হলুদ, সিলভার বস্নু ও ধূসরসহ বিভিন্ন রং ও প্রজাতির টিয়া, বাজরিগর, জাভা, ইলেক্টাস, র্যাম, ডায়মন্ড ডাভ, গ্রীন ডাভ, ফিঞ্চ, রেইনবো লরি, চ্যাটারিং লরি, বস্ন্যাক ক্যাপ লরি, জানদিয়ার, প্যারাকিট, মুলুকান কাকাতুয়া, সালফার ক্যাস্টেট কাকাতুয়া, গোল্ডেন ফ্রিজেন্ট, সিলভার ফ্রিজেন্ট, বিভিন্ন রঙের লাভবার্ড ইত্যাদি।
পাখিগুলোর সঙ্গে এর মালিক আব্দুল ওয়াদুদের বেশ সখ্য লৰ্য করা গেল। যা উৎসুখ দর্শনার্থীরা আগ্রহ ভরেই দেখছেন। আমরা জানি প্রশিৰণ দেয়া পাখি কথা বলে, ডিগবাজি খায়, কিন্তু তাঁর পাখিগুলো একটু বেশিই প্রশিৰণ পাওয়া বলে মনে হলো। কারণ তিনি যা বলছেন, তাই শুনছেন এবং করছেন। যেমন- মা, নেমে আস, হাতে বসো, গালে চুমু দাও ইত্যাদি। পাখিগুলোও ঠিক তা, তা-ই করছে।
তাঁর চিড়িয়াখানায় সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা পাখি আর সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা মূল্যের বস্নু-গোল্ড ম্যাকাও এর দম্পতি রয়েছে। সম্প্রতি এই ম্যাকাও পরিবার বাচ্চা ফুটিয়েছে। যা দৰিণ-পূর্ব এশিয়াতেই প্রথম। উলেস্নখ্য, ম্যাকাও গভীর জঙ্গলের পাখি। সে রকম পরিবেশ না পেলে ডিম পাড়া ও বাচ্চা ফুটানো তো দূরে থাক, তাদের অসত্মিত্ব টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর। তাই এই পাখির বংশ বিসত্মারের জন্য আব্দুল ওয়াদুদ ছাদে গাছ-গাছালি লাগিয়ে কৃত্রিম ঝর্ণা তৈরি করে জঙ্গলের আবেশ দেয়াতেই ম্যাকাও ডিম দিয়েছে ও বাচ্চা ফুটিয়েছে। তাঁর সংগৃহীত পাখির মধ্যে বস্নু-গোল্ড ম্যাকাও একটি দুষ্প্রাপ্য ও দুর্লভ প্রজাতির পাখি। যেমন এর বাহারি রং, তেমনি চমক লাগানো এর কাজকর্ম। সুদূর মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের এই পাখি বাংলাদেশের টিয়া পাখির সমগোত্রীয় এবং গড়নও তেমনই। তবে আকারে অনেক বড়। এদের আদি নিবাস প্রধানত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বনাঞ্চল আমাজান জঙ্গলে। এই বিরল প্রজাতির পাখি গোটা উপমহাদেশেই আছে হাতেগোনা কয়েকটি। বিশ্বেও এর সংখ্যা খুব বেশি নয়। তবে বাংলাদেশে রয়েছে বস্নু-গোল্ড ম্যাক্যাও-এর এই দম্পতি। দৃষ্টিনন্দন এ বস্নু-গোল্ড ম্যাক্যাও পাখি সাধারণত ব্রাজিল, বলিভিয়া, ত্রিনিদাদ, ম্যাঙ্েিকা, কোস্টারিকা ও পানামার গভীর জঙ্গলে দেখা যায়। টিয়ার মতো এই ম্যাক্যাও পাখি শখ করেই পুষে থাকে মানুষ। উপমহাদেশের আদর্্রতা আর তাপমাত্রা এদের খুব একটা উপযোগী নয়। তাই এই পাখিটি সবাই পুষতে পারে না। এই পাখিটিসহ এমনই রং-বেরঙের শত শত দুষ্প্রাপ্য আরও অনেক পাখির সংগ্রহ রয়েছে এ মিনি চিড়িয়াখানায়। দুর্লভ এসব পাখি রক্ষণাবেক্ষণ অত্যনত্ম ব্যয়বহুল। পরিচর্যায় একটু ব্যতিক্রম বা অবহেলা হলেই মৃতু্যর ঝুঁকি থাকে। টাকার অঙ্কে একটি পাখির মৃতু্যর ধকল অনেক বেশি হলেও আরেক জোড়া সংগ্রহ করা তার চেয়েও কঠিন বলে জানালেন সংগ্রাহক আব্দুল ওয়াদুদ। তাই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির জন্য বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ আবাস গড়ে তুলেছেন তিনি। উলেস্নখ্য, তাঁর কাছে সংগৃহীত এসব পাখির আনত্মর্জাতিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রামের ছেলে বলেই ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল যখন যেখানে থাকব প্রকৃতির ছোঁয়ায় বা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকব। আর ছোটবেলা থেকেই পাখি ভালবাসতাম, পাখির অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে নিজেও হাত-পা চালাতাম, এভাবে কখন যে পাখির প্রেমে পড়ে যাই, তা আর বলতে পারি না। তবে এখন পাখিই আমার ধ্যান-জ্ঞান। সেই চিনত্মা থেকেই নিজ বাড়িতে এমন আয়োজন। আর প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে পাখি প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা। কারণ পাখি যেমন পরিবেশের ময়লা-আবর্জনা খেয়ে পরিবেশকে সুস্থ রাখে, তেমনি এই পাখি মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার শিৰা দিতে পারে। পাখির অঙ্গ চালনা থেকেই নিজে মার্শাল আর্ট শিখতে উদ্বুদ্ধ হই। আর একমাত্র বাংলাদেশীই আমি, যিনি ইয়োগা এ্যান্ড পাইলেটস'-এর ওপর কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য ১৯৯২ সালে 'অল ইন্ডিয়া রিসার্স ইনস্টিটিউট অব ইয়োগা' থেকে 'ব্যায়ামাচার্য্য' ডিগ্রী লাভ করি। পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করে ২০১০ সালে 'ফিকামলি' তত্ত্বের আবিষ্কার করি। যা এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হতে চলেছে। ফিকামলি হলো 'পাখি + ব্যায়াম + ধ্যান-এর সমন্বয়ে দেহ, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য বিনোদনভিত্তিক চিনত্মাপ্রবণ অনুশীলন পদ্ধতি।' যেমন, দেহের সঙ্গে ব্যায়ামের সম্পর্ক, আবার ব্যায়ামের সঙ্গে বিনোদনের, তেমনি বিনোদনের সঙ্গে পাখির সম্পর্ক। অর্থাৎ পাখি দেখার সঙ্গে সঙ্গে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার অটোনোমাস নার্ভাস সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাল লাগার কাজ করতে থাকে। পাখি সিস্নম, স্মাার্ট ও ন্যাচারাল সৌন্দর্যের প্রতীক। অনেক খাবার সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও পাখি বেশি বেশি খেয়ে তার ওড়ার ক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হারায় না। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্যাভাস ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। অনেক বেশি বেশি খেয়ে মেদভূঁিড় বাড়িয়ে আসত্মে আসত্মে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে, দৈহিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং বিভিন্ন রোগ আক্রমণের সহজ শিকারে পরিণত হয়। তখনই মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে। তা ছাড়া পাখির বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও খাদ্যাভাস থেকে অনেক ব্যায়ামের উৎপত্তি হয়েছে। শারীরিক সুস্থতার জন্য পাখি এবং ব্যায়ামের যোগসূত্র সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, সুস্থতা বলতে শুধু শারীরিক সুস্থতাকেই বোঝায় না, দেহ, মন ও আত্মার সম্মিলিত সুস্থতাই প্রকৃত অর্থে সুস্থতা। শারীরিক সুস্থতার জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা পাই ফিজিওথেরাপি। মানসিক সুস্থতার জন্য পাখির মাধ্যমে পাই ক্যাথারসিসথেরাপি, আর আত্মার সুস্থতার জন্য মেডিটেশনের মাধ্যমে করা হয় মলিফিকেশন থেরাপি। ব্যায়াম+ পাখি+ ধ্যান = ফিজিও থেরাপি+ ক্যাথারসিস থেরাপি+মলিফিকেশন থেরাপি। তিনটির আদ্যোক্ষর মিলেই 'ফিকামলি' (ফি, ক্যা, মলি)। ফিকামলি ব্যায়াম সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতির ব্যায়াম। দীর্ঘ গবেষণালব্ধ ও বহুল পরিক্ষীত এই পদ্ধতির ব্যায়াম শরীরকে নিরোগ, মনকে সতেজ ও প্রফুলস্ন রাখে। অনাবিল আনন্দ মানসিক প্রশানত্মি ও চিত্তবিনোদনের জন্য সব বয়সের নারী-পুরম্নষের কাছে এ ব্যায়াম সহজ ও বেশি কার্যকরী। বিশেষ করে বস্নাড প্রেসার, ডায়াবেটিস, নিয়ন্ত্রণ, ক্রোধ, টেনশন দূরীকরণে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এ ব্যায়াম অতুলনীয়। বাচ্চাদের মানসিক বিকাশেও এ ব্যায়াম গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে ব্যায়াম জগতে এক নতুন ধারণা ও পদ্ধতির উদ্ভাবন। তাই সকলেরই নিজ বাড়িতে প্রকৃতির আমেজ তৈরি করে শারীরিক সুস্থতার দিকে নজর দেয়া উচিত
Source: http://www.dailyjanakantha.com
No comments:
Post a Comment